১০০ শব্দের গল্প - ৫টি | ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | তাসফি আহমেদ
১০০ শব্দের গল্প - ৫টি | নভেম্বর '২৫ | তাসফি আহমেদ
১. অপেক্ষার নীল খাম
নিলা রোজ বিকেলে পোস্ট অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। সাত বছর আগে আবির কথা দিয়েছিল, বিসিএস ক্যাডার হয়ে যেদিন ফিরবে, সেদিন নীল শাড়িতে দেখতে চায় ওকে। আবির আর ফেরে না, কিন্তু নিয়মিত চিঠি আসে। আজ শেষ চিঠিটা এল। আবির লিখেছে, "নিলা, আমি আর ফিরব না। আমার ক্যান্সারের কথা তোমাকে জানাইনি, পাছে তোমার নীল শাড়িটা কান্নায় ভিজে যায়।" নিলা চিঠিটা বুকে চেপে ধরল। আজ তার পরনে নীল শাড়ি, কিন্তু আবির সেটা দেখার জন্য আর বেঁচে নেই।
২. দোলনা
রাত তিনটে। বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙল রুমির। পাশে তাকিয়ে দেখে চার বছরের মেয়েটা বিছানায় নেই। ভয়ে বুকটা ধক করে উঠল। দৌড়ে ড্রইংরুমে গেল। আবছা অন্ধকারে দেখল, মেয়েটা একা একা হাসছে আর শূন্যে হাত নাড়ছে। রুমি কাঁপা গলায় বলল, "মামনি, কার সাথে কথা বলছ?" মেয়েটা খিলখিল করে হেসে আঙুল দিয়ে ইজিচেয়ারটা দেখাল, "ওই তো দাদু, আমাকে লজেন্স দিচ্ছে।" রুমি জমে গেল। ইজিচেয়ারটা একা একাই দুলছে। অথচ তার বাবা মারা গেছেন মেয়েটার জন্মের দু’বছর আগেই।
৩. ক্ষুধার রং
রিকশাচালক মতিন আজ খুব খুশি। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর মেয়ের জন্য একজোড়া লাল ফিতা আর একটা গোলাপি জামা কিনেছে। মেয়ের সখ ছিল। কতো করে চাইলো, অথচ কিনে দিতে পারেনি। আজ কিনতে পেরে বেজায় খুশি সে। বস্তির ঘরে ঢুকে দেখে মেয়েটা জ্বরে পুড়ছে, হঠাতই মেয়েটা বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘরে এক দানা ওষুধ নেই।ডাক্তার দেখাতে হবে। অথচ এতো টাকাও অবশিষ্ট নেই। মতিন ফ্যালফ্যাল করে নতুন জামার প্যাকেটের দিকে তাকাল। শেষমেশ জামা আর লাল ফিতাটা দোকানে ফেরত দিয়ে এল। জ্বরের ঘোরে মেয়েটা বিড়বিড় করছে, "বাবা, আমার লাল ফিতা..." মতিন চোখের জল মুছে ভাবে, গরিবের শখ থাকতে নেই, শুধু ক্ষুধা থাকে।
৪. বিস্মৃতির দেয়াল
বৃদ্ধ আজহার সাহেব প্রতিদিন বিকেলে দুই কাপ চা বানান। এক কাপ নিজের জন্য, অন্যটা স্ত্রীর জন্য। স্ত্রী রেহানা বেগম জানালার ধারে বসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। আজহার সাহেব চায়ের কাপটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, "রেহানা, চা নাও।" রেহানা বেগম চমকে উঠে বললেন, "আপনি কে? আমার স্বামী কখন আসবে?" আজহার সাহেবের হাত কাঁপে, চা ছলকে পড়ে। পঞ্চাশ বছরের সংসার, অথচ আলঝেইমার্স আজ তাকে স্ত্রীর কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত এক আগন্তুক বানিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন করে পরিচিত হতে হয় নিজেরই ভালোবাসার মানুষের সাথে।
৫. শিকারি
শায়লা নিশ্চিত সে দরজা লক করেই ঘুমিয়েছে। কিন্তু মাঝরাতে ঘুম ভাঙতেই দেখল ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় কারো ছায়া। খাটের নিচে কেউ একজন শ্বাস নিচ্ছে। শায়লা চিৎকার করল না। সে খুব শান্তভাবে বালিশের নিচ থেকে নিজের পিস্তলটা বের করল। খাটের নিচের আগন্তুক জানে না, শায়লা কোনো সাধারণ গৃহবধূ নয়, সে এক পলাতক সিরিয়াল কিলার। আগন্তুক ভেবেছিল সে শিকার করতে এসেছে, কিন্তু সে জানে না, এই ঘরে সে আসলে নিজেই এক ফাঁদে পা দিয়েছে। আলো নিভিয়ে শায়লা হাসল।