বাংলা নতুন কবিতা সমগ্র | নভেম্বর '২৫ | তাসফি আহমেদ
বাংলা নতুন কবিতা সমগ্র | তাসফি আহমেদ
১। জীবনরেখা
কেউ আসে অনন্য হয়ে, স্নিগ্ধ হাসির আবরণে।
কেউ আসে বিধুর স্পর্শে, অস্রুর অঙ্গ বেয়ে।
দু'ধারায়ই মানুষ বাঁচে।
কেউ হেসে, কেউবা কেঁদে।
তাসফি আহমেদ
২। অন্তরাল
সব হিসেবই এখানে এসে থমকে যায়,
নিশ্বাসে আঁকা হয় অভিমান।
কবিতায় উঠে আসে কতো কষ্ট,
চোখ যেন বলে দেয় ব্যথা কী পরিমাণ।
বাঁচে একটি গোপন সংসার।
তুমি নেই বলে, এতো বেশি শূন্যতা বলে,
কষ্ট সই, অভিমান করি পরিহার।
অথচ, বিলীন হয়েও তুমি যেন,
থেকে যাও — এই অনিবার।
কবিতাঃ অন্তরাল
৩। প্রশান্তির অবয়ব
তুমি যেন পূর্নিমা,
স্নিগ্ধ কোমল আলো।
রূপে যার অহংকার নেই,
প্রাণে শান্তি বয়ে আনো।
তাই তো তোমায় নিত্য দেখি,
তোমার রূপের গভীরে আছে যে মুক্তি,
সে-ই আমার অনন্তের শেষ আসক্তি।
কবিতাঃ প্রশান্তির অবয়ব
৪। আক্ষেপ
আশায় যার প্রদীপ জ্বলে,
স্বপ্ন ভাঙ্গে নিত্য।
পথ তো তার সরল ছিল,
অবহেলায় করেছে তা বিস্মৃত।
সময় ঠিক পেরুবে,
জীবন পেরুবে চির আক্ষেপে।
কবিতা: আক্ষেপ
তাসফি আহমেদ
৫। তুচ্ছ
যে ধূলো তোমার উন্মুক্ত চরণ স্পর্শ করে,
আমি সেই ধূসর কণা হয়ে যেতে চেয়েছি।
যে পবন তোমার ঢেউ খেলানো কেশ ছুঁয়ে যায়,
আমি সেই উদাস হাওয়া হতে চেয়েছি।
যে গোধূলি তোমার অধরকোণে সুখ জমায়,
আমি সেই সুখ লগ্ন হতে চেয়েছি।
অথচ আমার এই বিশ্ব-সমান বাসনা গুচ্ছ,
তুমি ঠিকানা দিলে, "বড়ই তুচ্ছ"।
কবিতা: তুচ্ছ
তাসফি আহমেদ
৬। তোমায় নিয়ে
ধরো আমাদের আর কথা হলো না। আমি তোমার অপরিচিত হলাম। তুমি হলে আমার অপরচিতা। একই পথে হাঁটলেও, চোখাচোখি হলেও, কেউ কাউকে চিনিনি। এতো অচেনা হলেও, আমি যখনই একটি ফুল দেখব, আমি মুগ্ধ হয়ে তোমার কথাই ভাববো। আমার অবচেতন অজান্তেই ভেবে উঠবে, এতো মসৃণ ছিল সে! এতো কোমল ছিল সে। এতো মায়াবী ছিল সে। আস্তা এই ফুলটার মতোন।